মানিকগঞ্জে ওমর সানীর রেস্টুরেন্টে কাস্টমারকে কুপিয়ে জখম

চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানীর মালিকানাধীন মানিকগঞ্জের অরঙ্গবাদ এলাকায় অবস্থিত ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ নামের রেস্টুরেন্টে এক কাস্টমারকে কুপিয়ে জখমসহ কয়েকজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত আটটার দিকে সদর উপজেলার অরঙ্গবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান খানের চাচা খলিলুল রহমান খান বাদল বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাতজনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় উল্লেখিত আসামিরা হলেন মো. ইমরান (২৪), মো. লিখন (২২), হাসান (২৭), জীবন (২৫), মুন্না (২২) ও মঞ্জুর (২৬)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আতিকুর রহমান চার-পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ওই রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যান। সেখানে কয়েকজন নারী কাস্টমারের সঙ্গে আসামিরা দুর্ব্যবহার ও অনৈতিক আচরণ করছেন—এমন অভিযোগে তিনি ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করেন। এতে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা লোহার রড, হাতুড়ি, চাপাতি, ধারালো ছুরি, কুড়াল, বেলচা ও বাঁশের লাঠিসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভুক্তভোগীরা দৌড়ে মূল সড়কের দিকে যান। এ সময় আসামি ইমরান ধারালো ছুরি দিয়ে আতিকুর রহমানের পিঠে আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে লিখন লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় তার পকেটে থাকা টাকাও ছিনিয়ে নেয়া হয়। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আতিকুর রহমানকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলার বাদী খলিলুল রহমান খান বাদল অভিযোগ করে বলেন, রেস্টুরেন্টে একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে। তার ভাতিজা প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এদিকে ‘চাপওয়ালা শ্বশুরবাড়ি’ রেস্টুরেন্টের মালিক চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, আমার রেস্টুরেন্টে নানরুটি বানানোর একজন কারিগর হঠাৎ চলে যায়। এতে একটা সংকট তৈরি হয়। ঠিক এই সময়ে লিখন নামের একজন কর্মচারীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়, ওর বাসা রেস্টুরেন্টের কাছেই। একজন কাস্টমারের কাছে নানরুটি পছন্দ না হওয়ায় তিনি তা জানাতেই লিখন প্রতিবাদ করে, চিল্লাচিল্লি করে। একপর্যায়ে নারী কাস্টমারের সঙ্গে বাগ্‌বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। আমার রেস্টুরেন্টের অন্য কর্মচারীদের মধ্যে মুন্না, জীবনসহ কয়েকজন তা মিটমাটের চেষ্টা করে।

এ নায়ক আরও বলেন, যদিও আমি নিজে সেখানে ছিলাম না, তবে সিসিটিভির ক্যামেরায় যা দেখেছি, তাতে পরিস্কার—লিখন কাস্টমারের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিল। হাতাহাতি করেছে। একপর্যায়ে তারা রেস্টুরেন্টের সীমানার অনেক বাইরে চলে যায়। এরপর শুনি, রেস্টুরেন্টে দুর্ব্যবহারের সূত্র ধরে একজনকে লিখন ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের কেউ সেই কাস্টমারের পিঠে ছুরিকাঘাত করে। এটা কিন্তু আমার রেস্টুরেন্টের ভেতরে ঘটেনি। আর যারা ছুরিকাঘাতের মতো এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। লিখনসহ আরও যারা যারা জড়িত আছে এই ঘটনায়, তাদের সবারই শাস্তি চাই।

মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আহত আতিকুর রহমানের চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আসামি ইমরান ও লিখনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights